পরিবেশ
আমরা যে স্থানে বাস করি যে স্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। বিজ্ঞানে পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বুঝানো হয়ে থাকে। পরিবেশকে ' অনিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Uncontrollable ) এবং 'নিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Controllable ) এ দু'ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো স্বাভাবিক ( Natural ) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দ্বিতীয়টি হলো কৃত্রিম (Artificial) পরিবেশ। ক. নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: এ পরিবেশ এমন সব বাহ্যিক ও বাস্তব উপাদান দ্বারা গঠিত , যা মানুষ খুব সামান্য পরিমাণেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সার্বিকভাবে এসব মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে; চন্দ্র , সূর্য, বায়ু, বৃষ্টি, পাহাড়-পর্বত , নদ-নদী, সাগর -মহাসাগর ,ঋতু এবং জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। খ. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: নিয়ন্ত্রণযাগ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে এমন সব উপাদান যেসব মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যেমন : মানুষ বাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানিপ্রবাহকে বন্ধ করতে সক্ষম এবং বিরাট বন -জঙ্গল পরিষ্কার কিরে চাষাবাদযোগ্য জমিতে পরিণত করতে পারে। মানব সমাজের উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। ব্যক্তি ও দলের আচার-আচরণের উপরে ও এর প্রভাব প্রতিক্রিয়া ক্রিয়াশীল । পরিবেশ বিজ্ঞান: বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত সকল উপাদান তথা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে পরিবেশ বিজ্ঞান বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাস্তুসংস্থান (Ecology)
বেঁচে থাকার তাগিদে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব সম্প্রদায় ও জড় পরিবেশের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের (Environment) অন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। বাস্তুসংস্থানের দুইটি উপাদান রয়েছে। যথা- জীব সম্প্রদায় এং জড় পরিবেশ। জড় পরিবেশই জীর সম্প্রদায়কে ধারণ করে রাখে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সঞ্জীৰ এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্ত্র গুহ (Ecosystem) বলে।
জীব উপাদান
জীবমন্ডল (Biosphere) হলো পৃথিবীর সমস্ত ইকোসিস্টেমের যোগফল। এটাকে বলা যেতে পারে পৃথিবীর জীবনের এলাকা। পৃথিৱীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। জীবমন্ডলের বিস্তৃতি ওপরে-নিচে ২০ কি.মি. ধরা হলেও মূলত অধিকাংশ জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায় হিমালয় শীর্মের উচ্চা থেকে ৫০০ মিটার নিচের সামুদ্রিক গভীরতার মধ্যেই। সমুদ্রতল থেকে ৮৩৭২ মিটার নিচে পুয়ের্টোরিকা ট্রেঞ্চে মাছ পাওয়া গেছে। পাখিরা সাধারণত ১৮০০ মিটার উঁচুতে উড়ে। রাপেল জাতীয় শকুন সমুদ্র তল থেকে ১১৩০০ মিটার উচুতে উড়তে পারে। জীবমণ্ডল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- উদ্ভিদকুল (flora) এবং প্রাণিকুল (fanua)। উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও বিয়োজক জীবের মাধ্যমে খাদ্যবস্ত স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় সবুজ উদ্ভিদে ফিরে আসে। এরূপ চক্রাকার স্থানান্তর হওয়া এ খাদ্য খদকের সম্পর্ককে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের সুসংবদ্ধ বিন্যাসকে একরে খাদ্য জাল বলে। খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্য জলকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- উৎপাদক, খাদক বা ভক্ষক এবং বিয়োজক।
ভূতত্ত্ব বা ভূবিদ্যা (Geology)
ভূতত্ত্ব ভূবিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পৃথিবী, পৃথিবীর গঠন, পৃথিবী গঠনের উপাদানসমূহ, পৃথিবীর অতীত ইতিহাস এবং এর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভূতত্ত্ব শিক্ষা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব, অতীত আবহাওয়া ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যতের জলবায় সম্পর্কে ধারণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর আকার ও আকৃতি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে জিওডেসি (Geodesy) বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কম্পাস
লেভেল
মিওডোলাইট
সেক্সট্যান্ট
পৃথিবীর গঠন উপাদান
পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে লৌহ (৩২.১%), অক্সিজেন (৩০.১%), সিলিকন (১৫.১%), ম্যাগনেসিয়াম (১৩.৯%), সালফার (২.৯%), নিকেল (১.৮%), ক্যালসিয়াম (১.৫%), অ্যালুমিনিয়াম (১.৪%) এবং অন্যান্য (১.২%)।
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure of the Earth)
জন্মের সময় পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভত হয়। এই সময় পৃথিবীর বাহিরের ভারী উপাদানগুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মন্ডল বলে।
ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। যথা- অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
অশুমণ্ডল (Lithosphere)
ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম, গড়ে ২০ কিমি। ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিমি পুরু। মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত। এ স্তরকে সিয়াল (Sial) বলে। সমুদ্র তলদেশের ভূত্বকের প্রধান উপাদান সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে একটি অত্যন্ত পাতলা স্তর আছে। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভূ-বিজ্ঞানী মোহোরোভিসিক ১৯০৯ সালে ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল পৃথককারী এ স্তরটি আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এ স্তরটি মোহোবিচ্ছেদ নামে পরিচিত।
গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়। অশ্বমণ্ডল নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে সর্বাপেক্ষা বেশি এবং মহাসাগরের নিচে সর্বাপেক্ষা কম। এর গভীরতা স্থান বিশেষ ৩০ হতে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।
গরুমণ্ডল (Barysphere): অশ্বমণ্ডলের নিচের ২,৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রুরুস্তরকে গরুমণ্ডল বলে। গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ । গুরুমণ্ডলের স্তর: গুরুমণ্ডলের স্তর দুইভাগে বিভক্ত। যথা: ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল এবং খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল : ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ মণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট। খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল : এই মণ্ডলের প্রধান উপাদান আয়রন অক্সাইড,ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ থাকে। কেন্দ্রমণ্ডল (Centrospheres ) : গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। এ স্তরের পুরুত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার । এ স্তরের উপাদান হলো - লোহা , নিকেল, পারদ ও সিসা, তবে নিকেল ও লোহা এ স্তরের প্রধান উপাদান। কেন্দ্রমণ্ডলের তরল বহিরাবরণ প্রায় ২,২২৭ কিলোমিটার পুরু এবং কঠিন অন্তঃভাগ প্রায় ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু।
কেন্দ্রমণ্ডল (Centrosphere)
গুরুমণ্ডলের ঠিক পরে রয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এই মণ্ডল বিস্তৃত। এ স্তর প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা প্রায় ২.২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি কঠিন অন্তঃভাগ আছে যা ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু। কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni), যা নিফে (NiFe) নামে পরিচিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গর্ত করে নিচে যেতে থাকলে তাপ ও চাপ উভয়ই বাড়বে। কেন্দ্রমণ্ডলের চাপ পৃথিবী পৃষ্ঠের বায়ুচাপের চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০° সেলিসিয়াস।
খনিজ (Mineral)
কতকগুলো মৌলিক উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তাকে খনিজ বলে। খনিজ সাধারণত দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত। তবে কিছু কিছু খনিজ একটি মাত্র মৌল দ্বারাও গঠিত হতে পারে। একটি মাত্র মৌল দিয়ে গঠিত খনিজ হচ্ছে হীরা, সোনা, তামা, রুপা, পারদ ও গন্ধক। আবার সবচেয়ে কঠিন খনিজ হীরা এবং সবচেয়ে নরম খনিজ টেলক।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সাদামাটি
চুনাপাথর
কয়লা
গ্যাস
শিলা (Rock)
শিলা এক বা একাধিক খনিজের মিশ্রণ। শিলা গঠনকারী প্রতিটি খনিজের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। যদিও বেশির ভাগ শিলাই একাধিক খনিজ দ্বারা গঠিত হয়। সে ক্ষেত্রে খনিজ এবং শিলা একই পদার্থ। যেমন, ক্যালসাইট একটি খনিজ এবং শিলা হিসেবে এটি চুনাপাথর নামে পরিচিত।
শিলার প্রকারভেদ
উৎপত্তি অনুযায়ী ভূত্বকের শিলা তিন ধরনের। যথা-
১) আগ্নেয় শিলা
২) পাললিক শিলা
৩) রূপান্তরিত শিলা
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock)
পৃথিবীর শুরু থেকে যে সব শিলা উত্তপ্ত গলিত অবস্থা হতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে, তাই আগ্নেয় শিলা। Igneous অর্থ আগুন। অগ্নিময় অবস্থা হতে এ শিলার সৃষ্টি হয়েছিল বলে একে আগ্নেয় শিলা বলে। আগ্নেয় শিলার অন্য নাম প্রাথমিক শিলা, অস্তরীভূত শিলা। আগ্নেয় শিলার উদাহরণ - গ্রানাইট, গ্যাব্রো, সায়েনাইট, ডায়োরাইট, পরফাইরি, টাফ, ব্রেসিয়া, রায়োলাইট, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডেসাইট, ব্যাথোলিখ, ল্যাকোলিথ, ডাইক, সিল প্রভৃতি।
পাললিক শিলা (Sedimentary Rock)
পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলার উদাহরণ -চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, ডোলোমাইট জিপসাম, ডায়াটম প্রভৃতি। পাললিক শিলায় স্তরায়ন, জীবাশ্মের উপস্থিতি, তরঙ্গ ছাপ, কর্দম ফাটল রয়েছে।
জীবাশ্ম (Fossil)
পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে নানাবিধ সামুদ্রিক জীবজন্তুর কঙ্কাল ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ প্রস্তরীভূত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। প্রস্তরীভূত প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবদেহকে জীবাশ্ম বলে। জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে ফসিওলজি বলে।
রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock)
কোনো শিলায় তাপ, চাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এর খনিজ উপাদান ও বুনটের পরিবর্তন হয়ে যে নতুন শিলার সৃষ্টি হয় তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। আগ্নেয় বা পাললিক শিলা হতে পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়।
প্রধান রূপান্তরিত শিলা হল -
১) নিস: গ্রানাইট থেকে নিস এর সৃষ্টি হয়।
২) স্লেট: শেল থেকে স্লেট এর সৃষ্টি হয়।
৩) মার্বেল: চুনাপাথর বা ডোলোমাইট থেকে সৃষ্টি হয়।
৪) কোয়ার্টাজাইট: কোয়ার্টজ, বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়।
৫) গ্রাফাইট: কয়লা থেকে সৃষ্টি হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রুপান্তরিত শিলা
আগ্নেয় শিলা
পাললিক শিলা
জৈব শিলা
মেঘের পানির কণা খুবই উত্তপ্ত হয়ে যায়
মেঘে পানিকণারর চেয়ে ক্লোরিনের পরিমান বেশি হয়ে গেলে
মেঘের পানির কণার সাথে বাতাসের ভাসমান রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়ার ফলে
মেঘের পানির কণা খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায়
মাটি
পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি। সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% ভাগ জৈব পদার্থ থাকে। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে মাটি ৫ প্রকার। যথা- পাহাড়ি মাটি, ল্যাটোসেলিক মাটি, পলল মাটি, জলাভূমি মাটি এবং কোষ মাটি। বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটি ৩ প্রকার। যথা - বেলে মাটি, দো-আঁশ মাটি, এঁটেল মাটি।
ক) বেলে মাটি: যে মাটিতে ৭০ ভাগ বা তার বেশি বালিকণা থাকে, তাকে বেলে মাটি বলে। মরুভূমি, চরাঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলে বেলে মাটি দেখা যায়। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম। এই মাটিতে জৈব পদার্থ নেই। তাই এ মাটি চাষের উপযোগী নয়।
খ) দো-আঁশ মাটি: যে মাটিতে বালি, পলি, কর্মকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে দো-আঁশ মাটি বলে। এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি, তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী। এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণক্ষমতা উভয়ই বেশি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি। কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়
মাটি | পানি ধারণক্ষমতা | পানি শোষণক্ষমতা |
| বেলে মাটি | সর্বনিম্ন | সর্বোচ্চ |
| দো-আঁশ মাটি | বেশি | বেশি |
| এঁটেল মাটি | সর্বোচ্চ | সর্বনিম্ন |
গ) এঁটেল মাটি: যে মাটিতে ৪০-৫০% কর্মকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ। এই মাটিকে ভারি মাটিও বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
ভূপৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে বায়ুর আবরণ আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার। তবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭% ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বায়ুর চাপের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং ওপরের দিকে ঘনত্ব খুবই কম। বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে থাকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য।
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ
উপাদানসমূহ | শতকরা পরিমাণ | উপাদানসমূহ | শতকরা পরিমাণ |
| নাইট্রোজেন (N2) | ৭৮.০১% | নিয়ন (Ne) | ০.০০১৮% |
| অক্সিজেন (O2) | ২০.৭১% | হিলিয়াম (He) | ০.০০০৫% |
| কার্বন ডাই অক্সাইড (CO3) | ০.০৩% | ক্রিপটন (Kr) | ০.০০০১১% |
| ওজোন (O3) | ০.০০০১% | জেনন (Xe) | ০.০০০০৯% |
| আরগন (Ar) | ০.৮০% | হাইড্রোজেন | ০.০০০০৫% |
| হাইড্রোজেন | ০.০০০০৫% | নাইট্রাস অক্সাইড | ০.০০০০৫% |
| মিথেন | ০.০০০০২% | জলীবাষ্প, ধুলিকণা | - |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ট্রাপোস্ফিয়ার
আয়োনোস্ফিয়ার
স্ট্যাটোস্ফিয়ার
ক্যামোস্ফিয়ার
কার্বন মনো অক্সাইড
কার্বন ডাই অক্সাইড
ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন
সালফার ডাই-অক্সাইড
বায়ুমণ্ডলীয় স্তর (Atmospheric Layer)
বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের বৈশিষ্ট্যের (যেমন, উষ্ণতা, চাপ, ঘনত্ব) ভিত্তিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে একে চারটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা-
ক) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere) খ) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere) গ) মেসোমণ্ডল (Mesosphere) ঘ) তাপমণ্ডল (Thermosphere)
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটমত বায়ু স্তরকে বলে ট্রপোমণ্ডল। এ স্তরের গভীরতা মেরু এলাকায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
ট্রপোবিরতি
ট্রপোমণ্ডলের সীমানা ওপরের দিকে হঠাৎ করে শেষ না হয়ে ধীরে ধীরে এর গুণাবলি পরিবর্তিত হয়ে পরবর্তী স্তর স্ট্রাটোমন্ডলের গুণাবলির সঙ্গে মিশে গেছে। ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
স্ট্রাটোমণ্ডল ও স্ট্রাটোবিরতি
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম স্ট্রাটোমণ্ডল যা ওপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ওজন (O3) স্তর বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে অবস্থিত। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে স্ট্রাটোবিরতি।
মেসোমণ্ডল ও মেসোবিরতি
স্ট্রাটোবিরতির ওপরের স্তর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে মেসোমণ্ডল বলে। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে মেসোবিরতি।
তাপমণ্ডল
মেসোবিরতির ওপরের অংশ থেকে তাপমন্ডল শুরু হয়। তাপমণ্ডল মেসোমণ্ডল হতে উপরের দিকে যথাক্রমে আয়নোস্ফিয়ার, এক্রোস্ফিয়ার ও ম্যাগনিটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত। বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ারে।
মেরুজ্যোতি বা অরোরা
মেরু এলাকায় রাতের আকাশে উজ্জ্বল রঙিন আলোর দীপ্তি দৃশ্যমান হয়। এই বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে মেরুজ্যোতি বলে। মেরুজ্যোতির কারণ আবহাওয়ামণ্ডলের উচ্চতম স্তরে বৈদ্যুতিক বিচ্যুতি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্লোরিন
হাইড্রোজেন
কার্বন ডাই অক্সাইড
মিথেন
Read more